দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
এর আগে ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মশিউর রহমান।
আবেদনে বলা হয়, ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা এমটিডিআর ও এফডিআরের অর্থ আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কেনার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, এসব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা না হলে তা হস্তান্তরের আশঙ্কা রয়েছে। পরে সেগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সম্পত্তিগুলো ক্রোকের আদেশ প্রয়োজন।
আদালত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার দাখিল করা আবেদন ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর সংশোধিত ২০১৯ সালের বিধিমালার ১৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী আবেদনে উল্লেখিত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন।
নজরুল ইসলামের নামে ক্রোক করা সম্পত্তির মধ্যে রাজধানীর উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর ও গুলশান এবং ময়মনসিংহের ভালুকা, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে থাকা মোট ২০টি দলিলের সম্পত্তি রয়েছে। এসব সম্পত্তির দাপ্তরিক ক্রয়মূল্য ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
উল্লেখযোগ্য সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে গুলশানে ৮ কাঠা জমির ওপর বাড়ি, যার দলিলমূল্য ১০ কোটি টাকা; কুয়াকাটায় ৬ দশমিক ১৮ একর জমি, যার দলিলমূল্য ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা; এবং উত্তরায় ২১ দশমিক ২১ কাঠা জমি।
তাসলিমা ইসলামের নামে ক্রোক করা সম্পত্তির মধ্যে গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে থাকা মোট ২২টি দলিলের স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এসব সম্পত্তির দাপ্তরিক ক্রয়মূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
তাঁর নামে থাকা সম্পত্তির মধ্যে গুলশান ও বাড্ডায় বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও জমি এবং খিলক্ষেতে আবাসিক প্লট ও ভবন রয়েছে।
নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত এসব স্থাবর সম্পত্তির মোট সরকারি ক্রয়মূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকার বেশি। তবে এসব সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য এর চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই দায়ের করা একটি মামলাও রয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরের ২৩ অক্টোবর একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেছে দুদক।
এদিকে নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানা গেছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংস্থাটিতে মোট ১০টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি অভিযোগের তদন্ত শেষে মামলা করা হয়েছে। বাকি চারটি অভিযোগের তদন্ত এখনো চলছে।
দুদকের দায়ের করা ৩৫(০৭)২৫ নম্বর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে নজরুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া ৪০ লাখ গ্রাহকের জমাকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফারইস্টের দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার অভিযোগ এনে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছেন।
এমএস/